ব্যবসা কি: কীভাবে আপনার নিজের ব্যবসা শুরু করবেন

ব্যবসা কি?

অর্থশাস্ত্রের পরভিাষায় ব্যবসা এক ধরনরে সামাজকি র্কমকাণ্ড যেখানে নির্দিষ্ট সৃষ্টিশীল ও উৎপাদনীয় লক্ষ্যকে সামনে রখেে বৈধভাবে সম্পদ উর্পাজন বা লাভের উদ্দশ্যেে লোকজনকে সংগঠতি করা হয় ও  উৎপাদনীয় র্কমকাণ্ড রক্ষণাবক্ষেণ করা হয়।

আইনানুসার, ব্যবসায় বলতে সেই সংগঠনকে বুঝায়, যা অর্থের বিনিময়ে ভোক্তাকে পণ্য বা সেবা দুটো সুবিধা প্রদান করে

“ব্যবসায়” শব্দ টি ইংরজেি “Business” শব্দরে পারভিাষকি প্রতশিব্দ। “Business” শব্দরে আক্ষরকি র্অথ হচ্ছে “ব্যস্ত থাকা” র্অথাৎ হয় ব্যক্তগিতভাবে অথবা সমষ্টিগতভাবে বাণজ্যিকি ভাবে সর্মথনযোগ্য ও লাভজনক কাজে ব্যস্ত থাকা।

পণ্য-দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপাদন, পণ্য-দ্রব্য ও সেবাকর্ম বিনিময় ও এর সহায়ক কাজের সমষ্টিকে ব্যবসায় বলে।

ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য:

ক) টিকে থাকা
খ) সমৃদ্ধি
গ) মুনাফা করা
ঘ) সামাজিক দায়িত্ব সম্পাদন

ব্যবসার ধরন:

মালিকানা ও আইনগত দিকের ভিত্তিতে ব্যবসার ধরন-

ক) একক মালিকানা
খ) অংশীদারী কারবার
গ) কোম্পানী-১. প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানী ২. পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী

কার্যক্রমের ভিত্তিতে ব্যবসার ধরন  –

ক) উৎপাদন মুখী
খ) সেবা মুখী
গ) ট্রেডিং

আধুনিক ব্যবসাকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে –

১)শিল্প (Industry)
২)বাণিজ্য (Commerce)
৩)প্রত্যক্ষ সেবা (Direct Services)

১)শিল্প (Industry):
উত্তর:কাঁচামাল বা প্রাথমিক দ্রব্যকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুত প্রনালীর মাধ্যমে মাধ্যমিক বা চুড়ান্ত দ্রব্যের রুপান্তরের প্রত্রিুয়াকে শিল্প বলা হয়।

অথবা

যে প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ , কাচামালে রূপদান এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কাঁচামালকে মানুষের ব্যবহার – উপযােগী পণ্যে পরিণত করা হয় তাকে বলা হয় শিল্প ।

আকারের ভিত্তিতে শিল্প চার প্রকার। যথা:

ক)বৃহৎ শিল্প
খ)মাঝারী শিল্প
গ)ক্ষুদ্র শিল্প
ঘ)কুঠির শিল্প

(ক) বৃহৎ শিল্প : এই শিল্পে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ কোটি টাকার অধিক এবং ১০০ জনেরও অধিক শ্রমিক কাজ করে ।

খ)মাঝারী শিল্প : এই শিল্পে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ কোটি টাকার কম এবং ২৫ হতে ১০০ জন শ্রমিক কাজ করে ।

(গ) ক্ষুদ্র শিল্প : এই শিল্পে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১.৫০ কোটি টাকা এবং২৫ জনেরও কম শ্রমিক কাজ করে।

(ঘ) কুঠির শিল্প : এই শিল্পে বিদ্যুৎ ব্যবহার ছাড়াই শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যগন ঘরে বসে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকে ।

শিল্পকে প্রধানত পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা:
১)প্রজনন শিল্পে (Genetic Industry)
২)নিষ্কাশন শিল্প(Extractive Industry)
৩)নির্মাণ শিল্প(Construction Industry)
৪)উৎপাদন শিল্প (Manufacturing Industry)
৫)সেবা শিল্প( Service Industry)

১)প্রজনন শিল্পে (Genetic Industry):
প্রজনন শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রী পুনরায় সৃষ্টি বা উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় ।
যেমন-নার্সারি, হ্যাচারী ইত্যাদি ।

২)নিষ্কাশন শিল্প(Extractive Industry):
নিষ্কাশন শিল্পের মাধ্যমে ভূগর্ভ ,পানি বা বায়ু হতে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা হয।
যেমন —খনিজ শিল্প।

৩)নির্মাণ শিল্প (Construction Industry):
নির্মাণ শিল্পের মাধ্যমে রাস্তাঘাট,সেতু ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়।

৪)উৎপাদন শিল্প (Manufacturing Industry):
উৎপাদন শিল্পে শ্রম ও যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে চূড়ান্ত পণ্যে রূপান্তর করা হয়। যেমন – বস্ত্র শিল্প ।

৫)সেবা শিল্প( Service Industry):
সেবা শিল্প বিভিন্ন প্রকার সেবা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও আরামদায়ক করে । যেমন – বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ , ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্য সেবা ইত্যাদি ।

২)বাণিজ্য (Commerce):

ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌঁছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবা সামগ্রী ভোক্তাদের নিকট পৌঁছানোর সকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে ৷
বাণিজ্য দুই ধরনের। যথা:

১)অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য
২)আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক বাণিজ্য

অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য:

যখন একই দেশের দুটি অঞ্চলের মধ্যে পণ্যের বিনিময় হয়,তখন তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।

আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক বাণিজ্য:

যখন দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে পণ্যের বিনিময়হয়, তখন তাকে বলে বৈদেশিক বাণিজ্য।

৩)প্রত্যক্ষ সেবা (Direct Services):

অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীন পেশায় নিয়ােজিত ডাক্তার , উকিল , প্রকৌশলী প্রভৃতি পেশাজীবীরা বিভিন্ন রকম সেবাকর্ম অর্থের বিনিময়ে প্রদান করে থাকেন । এ সকল সেবাকর্ম বা বৃত্তি প্রত্যক্ষ সেবা হিসেবে পরিচিত  যেমন: ডাক্তারি ক্লিনিক , আইন চেম্বার , প্রকৌশলী ফার্ম, অডিট ফার্ম ইত্যাদি । প্রত্যক্ষ সেবা আধুনিক ব্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা ।

মালিকানার ভিত্তিতে ব্যবসায় সংগঠনগুলােকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায় :
১ . একমালিকানা ব্যবসায়
২ . অংশীদারি ব্যবসায়
৩ . যৌথ মূলধনী ব্যবসায় বা কোম্পানি সংগঠন
৪ . সমবায় সমিতি
৫ . রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়

যৌথ মূলধনী ব্যবসায় বা কোম্পানি সংগঠন :
যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের ধারণা ( Concept of Joint Stock Companies ):
একমালিকানা ব্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে ব্যবসায়ের যে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল কালক্রমে আর একমালিকানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি । একমালিকানা ব্যবসায়ের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বিশেষ করে মূলধনের স্বল্পতা ও একক পরিচালনা ও ক্ষুদ্র আয়তনের জন্য অংশীদারি ব্যবসায়ের উৎপত্তি হয় । কিন্তু অংশীদারি ব্যবসায়ও মূলধনের সীমাবদ্ধতা , আইনগত সীমাবন্ধতা , স্থায়িত্বহীনতা ও অসীম দায়ের ভার থেকে মুক্ত হতে পারেনি । এক সময় মানুষের চাহিদা , প্রয়ােজনীয়তা ও ব্যবসায়ের আওতা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে । ফলশ্রুতিতে আইনের ভিত্তিতে সৃষ্টি হয় অধিক মূলধন ও বৃহদায়তনের যৌথ মূলধনী ব্যবসায় যা কোম্পানি সংগঠন নামেও পরিচিত । মূলত শিল্প বিপ্লবের কারণে উৎপাদন ব্যবস্থায় যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় তার সাথে সাথে ব্যবসায় সংগঠনের প্রকৃতি ও আওতায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে । উৎপাদন , বণ্টন ব্যবস্থা পারিবারিক গন্ডি থেকে বেরিয়ে এসে কারখানাতে স্থান নেয় । ফলে জন্ম হয় অধিক মূলধন , সীমিত দায় , যৌথ ব্যবস্থাপনা এবং আইনগত সত্তা ও পৃথক অস্তিত্ব বিশিষ্ট যৌথ মূলধনী ব্যবসায় সংগঠনের । উল্লেখ্য , অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ( ১৭৫০ – ১৮৫০ ) সময়ে ইউরােপের কৃষিতে , শিল্পকারখানায় , কয়লা উত্তোলনে ও পরিবহন ব্যবস্থায় যে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন সাধিত হয় তাকে শিল্প বিপ্লব ( Industrial Revolution) নামে অভিহিত করা হয় ।
যৌথ মূলধনী ব্যবসায় আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট ও পরিচালিত হয় । সর্বপ্রথম কোম্পানি আইন পাস হয় ব্রিটেনে ১৮৪৪ সালে যা The Joint stock Company Act 1844 ‘ নামে পরিচিত ছিল । ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কোম্পানি আইন পাস হয় ১৮৫০ সালে । ১৯১৩ সালে ভারতীয় কোম্পানি আইন আবার নতুন করে পাস হয় । স্বাধীন বাংলাদেশেও অনেক বছর যাবত ১৯১৩ সালের কোম্পানি আইন চালু ছিল । কোম্পানি আইনের ব্যাপক সংস্কার করে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে নতুন কোম্পানি আইন প্রবর্তন করা হয় । বর্তমানে বাংলাদেশের সকল কোম্পানি ব্যবসায় ১৯৯৪ সালের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে । ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে কোম্পানি বলতে ‘ অত্র আইনের অধীনে গঠিত ও নিবন্ধিত কোনাে কোম্পানি অথবা বিদ্যমান কোনাে কোম্পানিকে বুঝায় ‘ । মূলত কোম্পানি সংগঠন হলো আইন দ্বারা সৃষ্ট , পৃথক অস্তিত্বসম্পন্ন , কৃত্রিম ব্যক্তি সত্তার অধিকারী এবং সীমিত দায়ের এমন এক ধরনের প্রতিষ্ঠান যেখানে কতিপয় ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যৌথভাবে মূলধন বিনিয়ােগ করে ।
যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য (Features of Joint Stock Company):
বর্তমানের বৃহদায়তন ব্যবসায় জগতে এ জাতীয় ব্যবসায়ের গুরুত্ব অধিক । এ জাতীয় ব্যবসায়ের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা তাকে অন্যান্য ব্যবসায় সংগঠন থেকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে ।
নিচে কোম্পানি সংগঠনের বৈশিষ্ট্যগুলাে বিশ্লেষণ করা হলাে –
১)যৌথ মূলধনী কোম্পানি একটি আইনসৃষ্ট ব্যবসায় সংগঠন । দেশের প্রচলিত কোম্পানি আইনের আওতায় এ ব্যবসায় গঠিত হয় । আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে হয় বলে এর গঠন বেশ জটিল ও আনুষ্ঠানিকতাপূর্ণ । আইন অনুযায়ী এর সদস্য সংখ্যা নির্ধারিত । প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন এবং পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য ৭ জন এবং সর্বোচ্চ সংখ্যা শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ ।
২)কোম্পানি ব্যবসায় একটি স্বেচ্ছামূলক প্রতিষ্ঠান । কোম্পানি ব্যবসায় করতে আগ্রহী কিছু সংখ্যক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সংঘবদ্ধ হয়ে কোম্পানি গঠন করে । তবে সদস্যদের কেউ ইচ্ছা করলে শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে সহজেই ব্যবসায় থেকে বিদায় নিতে পারে । আবার কেউ ইচ্ছা করলে শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে এর সদস্য পদও লাভ করতে পারে ।
৩)আইনের দ্বারা সৃষ্ট বলে এ ব্যবসায়টি কৃত্রিম ব্যক্তি সত্তার অধিকারী । কৃত্রিম ব্যক্তি সত্তা বলতে বােঝায় , ব্যক্তি না হয়েও ব্যক্তির ন্যায় আইনগত মর্যাদা ও অধিকার অর্জন করা । কোম্পানি যে কোনাে স্বাধীন ব্যক্তির মতাে নিজ নামে অন্যের সাথে চুক্তি ও লেনদেন করতে পারে এবং প্রয়ােজনে মামলাও করতে পারে । আবার অন্য কোনাে পক্ষও কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে ।
৪)কোম্পানি ব্যবসায় যেহেতু আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট তাই এর বিলুপ্তি ঘটাতে চাইলে তা করতে হবে আইনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় এভাবে সে চিরন্তন অস্তিত্বের মর্যাদা লাভ করে । কোনাে শেয়ার হােল্ডারের মৃত্যু , দেউলিয়াত্ব বা শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে কোম্পানির বিলােপ সাধন হয় না ।
৫)কৃত্রিম ব্যক্তি হওয়ার কারণে কোম্পানিকে একটি সিল ব্যবহার করতে হয় । কোম্পানির সকল কাজে ও কাগজপত্রে এ সিলের ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
৬)আইনগতভাবেই কোম্পানির মূলধনকে কতকগুলো সমান অক্ষের ক্ষুদ্র এককে ভাগ করা হয় । এরূপ প্রত্যেকটি একককে একটি করে শেয়ার বলে । শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানি মূলধন সংগ্রহ করে । এজন্য এগুলােকে শেয়ার মূলধন বলে । ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যে কোনাে ব্যক্তি এবং যে কোনাে প্রতিষ্ঠান শেয়ার কিনে এর সদস্যপদ লাভ করতে পারে । সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে এবং শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করার সুযােগ থাকার কারণে কোম্পানি ব্যবসায়ে অধিক মূলধনের সমাবেশ ঘটে।
৭)কোম্পানি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কোম্পানির মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ আলাদা । একমালিকানা বা অংশীদারি ব্যবসায়ের মতাে মালিকেরা সরাসরি ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করে না । ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকে বেতনভুক্ত অন্য একটি পক্ষের উপর । পরিচালক বা মালিকগণ নীতি নির্ধারণ কাজে অংশগ্রহণ করে থাকেন।
৮) কোম্পানি ব্যবসায়ের সদস্যগণের দায় সীমিত । একমালিকানা বা অংশীদারি ব্যবসায়ের মতাে অসীম নয় । সদস্যগণের দায় সাধারণত শেয়ার মূল্য ও প্রতিশ্রুতি দ্বারা সীমাবদ্ধ । শেয়ার মূল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ বলতে বােঝায় একজন শেয়ার মালিক যে মূল্যমানের শেয়ার কেনে তিনি শুধু সে পরিমাণ অর্থের জন্য দায়ী । অর্থাৎ যদি কোনাে শেয়ার মালিক কোনাে কোম্পানির ১০০ টাকা মূল্যের ১০০ শেয়ার ক্রয় করেন তাহলে তার দায় শুধু ১০ , ০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে । অন্যদিকে প্রতিশ্রুতি দ্বারা সীমাবদ্ধ কোম্পানিতে একজন শেয়ারমালিক যে পরিমাণ শেয়ার ক্রয়ের জন্য প্রতিশ্রুতি দেন সে পরিমাণ অর্থের দায়বদ্ধ থাকবেন ।
৯)কোম্পানি ব্যবসায়ের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় গণতান্ত্রিক রীতি – নীতি ও মূল্যবােধ অনুসরণ করা হয় । শেয়ারমালিকগণ প্রত্যক্ষভাবে ভােট দিয়ে পরিচালনা পরিষদ নিয়ােগ করেন পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবসায় পরিচালিত হয় ।
যৌথ মূলধনী ব্যবসায় বা কোম্পানি সংগঠনের প্রকারভেদ (Classification of Join Stock Company):
বিশ্ব সমাজ ব্যবস্থায় আর্থ – সামাজিক দিকের বহুবিধ পরিবর্তন ও উন্নয়নের ছোঁয়া ব্যবসায় জগৎকে স্পর্শ করে । যার কারণে একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে বৃহদায়তন ব্যবসায় হিসেবে যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের উৎপত্তি হয় । যৌথ মালিকানাধীন যত রকমের ব্যবসায় সংগঠন আছে তার মধ্যে কোম্পানি সংগঠন সবচেয়ে বেশি পরিচিত ।
বাংলাদেশের কোম্পানি সংগঠনগুলােকে প্রধানত দু ‘ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
ক)প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ও
খ)পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ।
ক) প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি (Private Limited Company):
যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ এবং যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযােগ্য নয় তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে । বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে বলা হয়েছে , প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলতে এমন কোম্পানিকে বােঝায় যার সদস্য সংখ্যা ৫০ জনে সীমাবদ্ধ , সদস্যদের শেয়ার হস্তান্তর অধিকার সীমিত এবং শেয়ার ও ঋণপত্র ক্রয়ের জন্য জনগণের নিকট আমন্ত্রণ জানানাে নিষিদ্ধ ’ অর্থাৎ কোম্পানির সদস্যগণ শুধু নিজেরাই শেয়ার ক্রয় করতে পারেন । সদস্য সংখ্যা ও মূলধনের পরিমাণ সীমিত হওয়ার কারণে এ জাতীয় কোম্পানির আয়তন তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র হয়ে থাকে । আইন অনুযায়ী এ কোম্পানির পরিচালকের সংখ্যা ন্যূনতম ২ হতে হবে । বাংলাদেশে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
খ)পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (Public Limited Company):
যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ জন ও সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা কোম্পানির মারকলিপিতে উল্লিখিত শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং শেয়ার ও ঋণপত্র জনগণের নিকট বিক্রি করা যায় এবং শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযােগ্য তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে । পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি প্রয়ােজনে মারকলিপিতে সংশােধনী এনে শেয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে । আইন অনুযায়ী এ কোম্পানির ন্যনতম ৩ জন পরিচালক থাকতে হবে ।
যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের গুরুত্ব (Importance of Joint Stock Company):
বর্তমান ব্যবসায় জগতে একমালিকানা ব্যবসায়ের মতাে যৌথ মালিকানার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ব্যবসায়ও দেশে দেশে খুব জনপ্রিয় । তাছাড়া বৃহদায়তনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিপুল সখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টির জন্য কোম্পানি সংগঠন সবচেয়ে বেশি উপযােগী । কর্মসংস্থানের সাথে সাথে শুধু বেকারত্বই দূর হয় না , জীবনযাত্রার মানেরও উন্নতি হয় এবং মাথাপিছু আয় বাড়ে । আবার একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ে ঝুঁকি এবং দায় অসীম হওয়ার কারণে বড় আকারের ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়ােগ সম্ভব হয় না যা সম্ভব হয় কোম্পানি সংগঠনে । তাছাড়া উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে কোম্পানি সংগঠনই বেশি উপযুক্ত ।
কারণ এ ধরনের ব্যবসায় সংগঠন ও শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য যে বিশাল পরিমাণ মূলধন ও অর্থের প্রয়ােজন হয় তা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিগুলাে জনগণের নিকট থেকে সংগ্রহ করতে পারে । ফলে দেশের শিল্প উন্নয়ন বিকাশে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পায় । কোম্পানি সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অজ্ঞানে ব্যবসায়ের প্রসার বৃদ্ধি পায় ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কও সুদৃঢ় হয় । বর্তমানে বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানি বিশ্বব্যাপী তাদের ব্যবসায় পরিচালনা করে । আমাদের দেশেও বাটা সু লিমিটেড , ইউনিলিভার ইত্যাদি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে । এভাবে এক দেশের কোম্পানি অন্য দেশে শাখা খুলে কাজ করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্কও গড়ে উঠে । বাংলাদেশে বিগত দুই দশক যাবত অনেকগুলাে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেগুলাে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
কোম্পানির গঠন প্রক্রিয়া (Process of Formation of a Company):
বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুসারে কতকগুলাে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কোম্পানি গঠন করতে হয় ।
কোম্পানি গঠন প্রক্রিয়াটি সাধারণত চারটি ধারাবাহিক পর্যায়ে সম্পন্ন হয় । সেগুলাে হলাে-
ক)উদ্যোগ গ্রহণ পর্যায়
খ)দলিলপত্র প্রণয়ন পর্যায়
গ)নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ পর্যায
ঘ)কার্যারম্ভ পর্যায়
ক)উদ্যোগ গ্রহণ পর্যায়:
এ পর্যায়ে কোম্পানি গঠনে আগ্রহী ব্যক্তিগণ নিজেরা একত্রিত হয়ে কোম্পানির সম্ভাব্য নাম , কোম্পানির ধরন , মূলধনের পরিমাণ , মূলধন সংগ্রহের উপায় , কোম্পানির ঠিকানা ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন । উদ্যোক্তাগণ ব্যবসায় সংগঠনের সম্ভাব্য নাম স্থির করে নিবন্ধকের অফিস থেকে সে নামে ছাড়পত্র সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন ।
খ)দলিলপত্র প্রণয়ন পর্যায়:
এ পর্যায়ে কোম্পানির পরিচালকগণ কোম্পানি ব্যবসায়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল প্রণয়ন করেন । একটি হলাে মারকলিপি এবং অন্যটি হলাে পরিমেল নিয়মাবলি । মারকলিপিকে কোম্পানির মূল দলিল , সনদ বা সংবিধান বলা হয় । এতে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন কোম্পানির নাম , নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা , উদ্দেশ্য , মূলধনের পরিমাণ , শেয়ারমালিকদের দায় – দায়িত্ব , ন্যূনতম চাঁদা ইত্যাদি বিষয় লিপিবদ্ধ করা হয় । অন্যদিকে পরিমেল নিয়মাবলিতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা সংক্রান্ত প্রয়ােজনীয় সকল বিষয় লিপিবদ্ধ করা হয় ।
গ)নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ পর্যায:
এ পর্যায়ে কোম্পানি নিকন্ধনের জন্য নিবন্ধকের অফিস থেকে ফি দিয়ে আবেদনপত্র সগ্রহ করতে হয় । আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে নির্ধারিত ফি ও প্রয়ােজনীয় দলিলপত্র নিবন্ধকের নিকট জমা দিতে হয় । নিবন্ধক নির্ধারিত আবেদনপত্র , সকল দলিলপত্র ও ফি পাওয়ার পর যদি সকল বিষয়ে সন্তুষ্ট হন তবে নিধন বইতে কোম্পানির নাম তালিকাভুক্ত করেন এবং নিধনপত্র প্রদান করেন । এ পত্র পাওয়ার পর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কাজ শুরু করতে পারে তবে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে কাজ শুরু করার জন্য নিধকের নিকট থেকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয় ।
ঘ)কার্যারম্ভ পর্যায়:
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাঁদা (Minimum Subscription) সংগ্রহের ঘােষণাপত্র এবং জনসাধারণের নিকট শেয়ার বিক্রয়ের ঘােষণাপত্রসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রসহ আবেদন করতে হয় । সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে এবং নিকন্ধক সন্তুষ্ট হলে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র প্রদান করেন । এ পত্র পাওয়ার পরেই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ব্যবসায় শুরু করতে পারে।

ব্যবসায় উদ্যোগ:

যেখানে বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল ব্যবহার করে পন্য বা সেবা উৎপাদন করা হয় অথবা পন্য বা সেবার মূল্য সংযোজন করা হয় এবং তা বিক্রয় করে কিছু অর্থ উপার্জন করা হয় তাকে এন্টারপ্রাইজ বা উদ্যোগ বলা হয় ।

এন্টারপ্রাইজের বৈশিষ্টঃ

  •  ইহা অবশ্যই একটা অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হবে
  •  ব্যক্তিগত বা যৌথ হতে পারে
  • উৎপাদন কর্মকান্ডে কিছুলোকের কাজের ক্ষেত্র থাকবে
  • কিছু যন্তপাতি ব্যবহৃত হবে
  • প্রযুক্তি যেমন- যন্ত্রপাতি, কৌশল, জ্ঞান দক্ষতা,অভিজ্ঞতা) ব্যবহার করা যাবে

উদ্যোক্তার সংজ্ঞাঃ

যিনি উপযুক্ত ব্যবসা নির্বাচন করতে পারেন, যথাযথ পরিকল্পনা করতে পারেন,নিজে সিদ্ধাত নিতে পারেন, প্রয়োজনীয় সম্পদ যোগাড় এবং ব্যবস্থাপনা করতে পারেন, সর্বোপরি ঝুঁকি গ্রহনের মানষিকতা যার আছে তিনিই উদ্যোক্তা

আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ড:

আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ড সাধারনত: পারিবারিক শ্রম, স্থানীয় সম্পদেও ব্যবহার ও অল্প অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বাজার নির্ভর পন্য বা সেবা উৎপাদন /প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদিত পন্য বিক্রয় করে।

ক্ষুদ্র উদ্যোগ:

সাধারনত প্রত্যক্ষভাবে মালিক পরিচালিত এবং পরিবারের সদস্যসহ অনধিক দশজন কর্মী নিয়োজিত আছে এমন উৎপাদনমূলক বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকেকে বুঝায়।

এন্টারপ্রেনারশিপঃ

  •  কি উৎপাদন হবে
  •  কত উৎপাদন হবে
  • কত জন কর্মী নিয়োগ করতে হবে
  •  তাদেরকে কত বেতন দিতে হবে
  • তাদের কি ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন

উপরোক্ত কাজগুলি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এন্টাপ্রেনারশিপ বলা হয়।

এন্টারপ্রাইজ +এন্টারপ্রেনার = এন্টারপ্রেনারশিপ

ব্যবসা নির্ধারণ এবং প্রাথমিক কর্মকান্ড সমূহ:

সফল ব্যবসার জন্য একজন বলিষ্ঠ উদ্যোক্তা অপরিহার্য। উদ্যোক্তা প্রথমেই নির্ধারণ করবেন তার পণ্যটি কি হবে? তার সেবাটি কি হবে এবং তার ব্যবসা টি কোথায় অবস্থিত হবে। এসব নির্ধারণের উপর ভিত্তি করে একটি ব্যবসায়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি স্থায়ী পরিচালনা করতে হবে যাকে বলা হয় Feasibility Study. প্রস্তাবিত ব্যবসার একটি সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল প্রস্তুত করতে হবে, এরপর একটি ব্যবসায় পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে, এই পরিকল্পনার মধ্যে ব্যবসার ধরন স্থান বিনিয়োগের পরিমাণ এবং অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

নতুন ব্যবসা পরিকল্পনা:

পণ্য বা সেবা নির্বাচন:

একটি ব্যবসার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে পন্য বা সেবার গুরুত্ব অনেক খানি। উপযুক্ত পণ্য বা সেবার উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেই উদ্যোক্তাকে ব্যবসা শুরু করতে হবে। একটি উপযুক্ত ব্যবসা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে তাকে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয় বিষয়গুলো হলো-

  • ব্যবসায় প্রেক্ষাপট 
  • উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা
  • প্রযুক্তির পর্যাপ্ততা এবং ব্যবসা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান
  • পন্য বা সেবার বাজার পর্যাপ্ততা
  • বিনিয়োগ ক্ষমতা
  • শিল্পোৎপাদন পদ্ধতিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, স্থাপন দ্রব্যসামগ্রী ইত্যাদি
  • পর্যাপ্ততা কাঁচামালের পর্যাপ্ততা
  • সঠিক অবকাঠামো সুবিধা যেমন ভূমি, স্থাপনা, বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহন ও অন্যান্য সুবিধা

7 thoughts on “ব্যবসা কি: কীভাবে আপনার নিজের ব্যবসা শুরু করবেন”

Leave a Comment