কিভাবে পার্সোনাল লোন নিবেন | personal loan bd

বাংলাদেশে personal loan নেয়ার নিয়মাবলী

আমাদেরকে কখনো কখনো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা আর্থিক ঘাটতির কারনে ব্যাংক থেকে ঋণ বা লোন নিতে হয়। গৃহঋণ বা গাড়ির ঋণ ছাড়াও বর্তমানে অনেকেই ব্যক্তিগত ঋণ বা পার্সোনাল লোন নিয়ে থাকেন। আমাদের দেশের ব্যাংক গুলো সহজ শর্তে এ ধরনের ঋণ দিয়ে থাকে।

সাধারনত ব্যক্তির বার্ষিক আয়ের উপরই তাকে কত টাকা ঋণ দেয়া হবে তা নির্ভর করে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে EMI দেওয়ার ক্ষমতা নির্ধারিত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বার্ষিক আয়। তবে এখানে বলে রাখা ভাল যে, অন্যান্য ঋণের তুলনায় পার্সোনাল ঋণের রেট অফ ইন্টারেস্ট বেশি। পার্সোনাল লোন বিভিন্ন উদ্দেশ্য বা প্রয়জনে নেয়া হয়। যেমন- জরুরি চিকিৎসা, বিদেশ ভ্রমন, বিবাহের খরচের জন্য ইত্যাদি।  আসুন, এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জেনে নেই।

পার্সোনাল লোন কি?

কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে জরুরি প্রয়োজনে অথবা কোন কাজের জন্য চেক বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যে লোন নেয়া হয় তাকে personal loan বলে। ব্যক্তিগত লোন আপনার বর্তমান আর্থিক চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। ব্যক্তিগত বা পার্সোনাল লোন নেয়ার সময় সাধারণত কোন সুরক্ষা বা জামানত গ্রহনের প্রয়োজন হয় না।

যে কেউ এই লোন নিতে পারবে এবং নিজের ইচ্ছায় খরচ ও করতে পারবে।  এ সুদের হার বেশি হওয়ার কারনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গ্যারান্টার ছাড়াই ঋণ দেওয়া হয়। সাধারনত, ব্যাংকগুলো ১১%-১৬% হার সুদে পার্সোনাল লোন দিয়ে থাকে। তাই সুদের হার সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই ঋণের জন্য আবেদন করা উচিত।

কোথা থেকে পার্সোনাল লোন নিবেন?

বিভিন্ন ধরনের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক পার্সোনাল লোন দিয়ে থাকে। যেমন- সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ইত্যাদি। এই ধরনের ব্যাংক গুলো সর্বনিম্ন ১০.৭৫% হারে পার্সোনাল লোন দিয়ে থাকে। তবে ঋণের পরিমাণ প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সমান নয় এবং কখনো কখনো শর্তসাপেক্ষে পরিবর্তনশীল।

কোন ব্যক্তির বার্ষিক আয়ের উপর নির্ভর করে সর্বনিম্ন ৫০,০০০টাকা থেকে  সর্বোচ্চ ২০,০০,০০০ টাকা (প্রায়) পর্যন্ত  লোন পাওয়া যায়। এ লোন গুলো সাধারনত ৬ মাস থেকে ৫ বছর মেয়াদী হয়ে থাকে। ব্যাংক গ্রাহককে বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে এবং  গ্রাহকের পরিশোধ করার যোগ্যতা যাচাই করে লোন দিয়ে থাকে। স্থায়ী বা সরকারী চাকুরিজীবীরা অন্যদের চেয়ে তাড়াতাড়ি লোন পেয়ে থাকে। ব্যবসায়ী বা আত্মকর্মসংস্থানকারী ব্যক্তিরা লোন পাবার জন্য কমপক্ষে ৩০,০০০টাকা আয় থাকতে হবে এবং চাকরিজীবিদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২৫০০০ টাকা আয় থাকতে হবে।

কোন ব্যাংকের সুদের হার কত?

আপনি যখন কোন ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে যাবেন, তখন আগে অবশ্যই কোন ব্যাংক কত শতকরা কত টাকা হারে সুদ দিচ্ছে তা যাচাই করে নিবেন। কারন যে ব্যাঙ্কে সুদের হার কম সাধারনত গ্রাহক সে ব্যাংক থেকেই ঋণ নিতে চায়। নিচে বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণের বিপরিতে সুদের হার এর তথ্য দেয়া হল।

রাষ্ট্র মালিকানাধীন বা সরকারি ব্যাংকগুলো ঋণের দেয়ার বিপরীতে প্রায় ১৩ শতাংশের মত সুদ নিয়ে থাকে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে-

ব্যাংক এশিয়ায় সুদের হার- ১০ থেকে ১৩ শতাংশ

এক্সিম ব্যাংক এ – ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ

আইএফআইসিতে -১৩ থেকে ১৬ শতাংশ

মার্কেন্টাইলে -১০ থেকে ১৩ শতাংশ

মিউচুয়াল ট্রাস্টে- ১১ থেকে ১৪ শতাংশ

ওয়ান ব্যাংকে- ১১ থেকে ১৫ শতাংশ

প্রাইম ব্যাংক এ- সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ

সিটি ব্যাংকে-১৩ শতাংশ

ব্র্যাক ও ঢাকা ব্যাংক এ- ১১ থেকে ১৪ শতাংশ

ডাচ্–বাংলা ও ইউসিবিএল এ- সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ

ইস্টার্ন ব্যাংক এ- ১০ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশ হারে সুদ বা ইন্টারেস্ট নেয়া হয়।

কি কি ক্ষেত্রে পার্সোনাল লোন পাওয়া যায়?

বিভিন্ন কারনে পার্সোনাল লোন বা ঋণের জন্য আবেদন করা যায়। এগুলো হল-

  • বিয়ের খরচ মেটানোর জন্য।
  • কোন দামী পন্য ক্রয় করতে।
  • জরুরি চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে।
  • বাড়ি মেরামতের কাজে।
  • ব্যবসায়ের মূলধনের যোগান দিতে।
  • ক্রেডিট কার্ডের ঋণ দেবার জন্য।

পার্সোনাল লোন পেতে হলে কি কি যোগ্যতা লাগবে বা কি কি থাকতে হবে?

personal loan bd নিতে হলে গ্রাহকের নিম্নোক্ত যোগ্যতা সমূহ থাকতে হবে-

বয়স

ঋণের জন্যে আবেদনকারির বয়স নুন্যতম ২১ বছর এবং সর্বচ্চ ৬০ বছর হতে হবে।

যোগ্যতা
পার্সোনাল লোনের জন্য আবেদন করা ব্যক্তির অবশ্যই আয় থাকা বাধ্যতামূলক। মাসিক বা বার্ষিক আয় নেই, এমন কেউ ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। সরকারি, বেসরকারি বা MNC-তে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্যে পার্সোনাল লোণ নেয়া সহজ। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি পূর্বে কোন ঋণ নিয়ে থাকলে তা পরিশোধ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়।

আপনি যখন লোন নিতে যাবেন তখন অবশ্যই এই কাগজপত্র গুলো থাকতে হবে-

  • গ্রাহকের জাতীয় ও ঠিকানার প্রমান। যেমন, ভোটার আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি।
  • চাকরিজীবীদের আইডি কার্ড থাকতে হবে।
  • গ্রাহকের যদি আগের কোন ঋণ থাকে, সেক্ষেত্রে ইএমআই তথ্য সহ ব্যাংক এর বিবরণী থাকতে হবে।
  • বিগত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ক্লিয়ার থাকতে হবে।
  • বিগত মাসের সেলারি স্লিপ প্রয়োজন হতে পারে।
  • অবশ্যই ঋণ গ্রহনের জন্য জামিন্দার বা গ্যারান্টার লাগবে।
  • আবেদনকারী ও জামিন্দারের দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।
  • আবেদনপত্রে আবেদনকারীর সই থাকতে হবে।
  • গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, ওয়াসার বিলের কপি থাকতে হবে।
  • ই-টিন কপি প্রয়োজন হতে পারে।
  • চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে সেলারি একাউন্ট থাকতে হবে।
  • নিয়োগপত্র এবং পে স্লিপ থাকতে হবে।
  • আবেদনকারী যদি বাড়ির মালিক হয়ে থাকে তবে বাড়ির দলিলপত্র এবং ভাড়াটিয়া থাকলে ভাড়ার রশিদ দেখাতে হবে।
  • ব্যবসায়ি হলে ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ থাকতে হবে।
  • ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত আয় এবং অন্যন্য হিসাব দেখতে হবে।
  • আবেদন কারির সকল তথ্য সঠিক হতে হবে।

personal loan ব্যাংক লোন

সাধারণত বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে লোণ নিয়ে থাকি। ব্যাংক থেকে লোণ বা ঋণ নিয়ে আমাদের বড় বড় স্বপ্ন গুলো পূরণ করার চেষ্টা করি। তবে ব্যাংক থেকে কাঙ্ক্ষিত এই লোণ পাওয়ার বিষয়টি কিন্তু সহজ নয়। এর প্রক্রিয়া খুব জটিল। লোণের জন্য যে আবেদন করা হয়, সেখানে আবেদনকারীর সামান্য ভুল হলেও কিন্তু আবেদন পত্র বাতিল হয়ে যায়। তাই খুব সাবধানতার সাথে এবং সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হয়। নিচে আমি লোণ গ্রহন এবং এর জন্য সব ধরনের করনীয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরছি।

সুদের হার সম্পর্কে তথ্য সগ্রহ

আপনি যখন কোন ব্যাংক থেকে লোণ নিতে যাবেন তখন অবশ্যই সেই ব্যাংকের সুদের হার কত সেটা জেনে নিবেন। কারন ব্যাংকের সুদের পরিমান বেশি হলে তা পরিশোধ করাও কষ্ট হয়ে যায়। তাই সুদের হার কম এমন কোন ব্যাংক থেকে লোণ নিলে ভালো হবে।

কি ধরনের লোণ নিতে চান সেটা ঠিক করুন

বর্তমানে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ধরনের লোন দিচ্ছে। আপনি কি ধরনের লোন নিতে চান সেটা ঠিক করুন। ব্যাংকে লোণের বিভিন্ন ক্যটাগরি থেকে আপনি যে লোণটি নিতে চান সেটা নির্বাচন করে, সেই লোণের বিষয়ে ব্যাংক থেকে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন। যেমন, আপনি যদি গাড়ি কিনতে চান তাহলে সেই জন্য নিবেন কার লোন। আবার যদি বাড়ি করার জন্য লোন নিতে চান তাহলে পাবেন হোম লোন। ব্যবসার জন্য আছে বিজনেস লোণ। পড়াশুনার জন্য এডুকেশন লোন, বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রবাসি লোন এবং কৃষি কাজের জন্য আছে কৃষি লোন।

কি ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নিবে

আপনি বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নিতে পারেন। তবে ঋণ নেয়ার জন্য ব্যাংকই ভালো এবং নিরাপদ। কারন ব্যাংক থেকে আপনি সব ধরনের সেবা পেতে পারেন। কিন্তু একটি ব্যাংক সব ধরনের ঋণ প্রদান করে না। যেমন কোন কোন ব্যাংক ব্যবসার জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে আবার কিছু ব্যাংক সহজ শর্তে পার্সোনাল বা স্যালারি লোন প্রদান করে। আপনি কি ধরনের লোন নিবেন সেই হিসেবে ব্যাংক নির্বাচন করে লোণের জন্য আবেদন করবেন।

আবেদনের পূর্বে লোণের শর্ত জেনে নিবেন

ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার কি কি শর্ত আছে তা জেনে নিতে হবে এবং সেগুলো আপনি পূরণ করতে পারবেন কি না তা যাচাই করে নিতে হবে। যদি আপনি যদি সেই শর্তগুলো পূরণ করতে পারেন, তবেই লোনের জন্য আবেদন করবেন।

ইনস্টলমেন্ট এর পরিমান জেনে নিবেন

ঋণ এর বিপরীতে মাসে কত টাকা ব্যাংককে প্রদান করতে হবে সে সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নিতে হবে। ইকুয়েটেড মান্থলি ইনস্টলমেন্ট বা ইএমআই আপনি অনলাইন থেকেও জেনে নিতে পারবেন কিন্তু সেজন্য আপনাকে লোনের পরিমাণ এবং সুদের হার সম্পর্কে অবশ্যই আগে জেনে নিতে হবে। যদি আপনার আয়ের থেকে প্রতি মাসে ইন্সটল্ মেন্টের পরিমান বেশি হয় তাহলে আপনার জন্য জীবনযাত্রার উপর এর প্রভাব পরবে। তাই আপনার আয়ের সাথে ইএমআই অবশ্যই মিলিয়ে নিতে হবে। আয়ের তুলনায় ইএমআই যদি বেশি হয়ে যায় তাহলে সেটি আপনার জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তাই আগে থেকেই ইনস্টলমেন্ট এর পরিমান জেনে নিতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়,  আপনি লোন নিতে চাইলে বন্ধুবান্ধব ফ্যামিলি থেকে লোন নিতে পারেন। এসব লোন পাওয়া অনেক সহজ হয় কিন্তু এই ধরনের লোন নিয়ে বেশিরভাগ সময় দেখা গিয়েছে যে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। তাই এ ধরনের লোন না নেয়াই ভালো। কখনোই উচ্চ সুদের হারে লোন নেওয়া উচিত নয়।

কারণ আপনি উচ্চ সুদের হারের লোন নিলে অধিক ঋণে জর্জরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। কিছু ব্যাংক খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে লোন প্রদান করে তাই এ ব্যাংকগুলোতে সুদের হার একটু বেশি হয়ে থাকে। আশা করি, উপরোক্ত  ব্যাংক লোন সম্পর্কিত তথ্যগুলো পরে আপনি সহজেই লোণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সিটি ব্যাংক লোন নেয়ার শর্ত সমূহ

সিটি ব্যাংক থেকে লোন নেয়ার জন্য করনীয়-

  • ঋণ নিতে ইচ্ছুক ব্যাক্তিকে প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে। বয়স ২২ থেকে ৬০ এর মাঝে হতে হবে ।
  • মাসিক ইনকাম চাকরিজীবীদের জন্য ২০০০০ টাকা, বাড়িওয়ালাদের জন্য ৩০০০০ টাকা, ব্যবসায়িদের জন্য ৫০০০০ টাকা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষক, স্থপতি দের জন্য ৫০,০০০ টাকা থাকতে হবে

লোনের পরিমাণ : সাধারনত সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন ১ লাখ হতে সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ পর্যন্ত প্রদান করে থাকে।

সুবিধা সূমহ :

  • প্রক্রিয়া করণ ফি -২% ।
  • লোন টেক ওভার সুবিধা পাবেন প্রসেসিং ফি ছাড়া।
  • মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে।
  • ঋণ পরিশোধের সময়কাল- ১২ থেকে ৬০ মাস।
  • দেশে সিটি ব্যাংকের যে কোন শাখা থেকে ঋণ গ্রহন এবং কিস্তি পরিশোধ করা যাবে।
  • সুদের হার- ৯% থেকে ১২% পর্যন্ত।

আবেদন করার জন্য কি কি প্রয়োজন হবে-

  • সদ‍্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
  • ভোটার আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট এর ফটোকপি ।
  • চাকুরীজীবিদের জন‍্য অফিসের পরিচয় পত্র অথবা ভিজিটিং কার্ড লাগবে ।
  • একটি প্রতিষ্ঠানে বা কর্মরত প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর অভিজ্ঞতা কমপক্ষে ১  বছরের হতে হবে।
  • প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষক, ডাক্তার স্থপতি ইত‍্যাদি এদের জন‍্য নিজ নিজ কর্ম ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা কমপক্ষে ২ বছর হতে হবে।
  • ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে আপডেট ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে।
  • একটি ব্যবসায় সর্বনিম্ন ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • ২ জন পার্সোনাল গ্যারান্টর লাগবে।

অগ্রণী ব্যাংক লোন নিবেন কিভাবে? 

আমাদের দেশে অগ্রণী ব্যাংকে থেকে বিভিন্ন লোন সেবা বা সুবিধা পাওয়া যায়। তবে এই সেবাটি পেতে হলে আপনাকে এই সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য বা রিকোয়ারমেন্ট সম্পর্কে জানতে হবে। নিচে অগ্রণী ব্যাংকের লোণ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দেয়া হল।

অগ্রণী ব্যাংকের লোনের খাত সমুহ

যে সমস্ত খাতে অগ্রণী ব্যাংক লোণ দেয় সেগুলো নিচে তুলে ধরা হল-

১। পার্সোনাল লোণ

২। প্রয়োজনীয় কাজের জন্য লোণ।

৩। মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য লোণ।

৪। প্রবাসি লোণ।

৫। অবসর প্রাপ্ত দের জন্য লোণ।

৬।স্বল্প মেয়াদি লোণ।

৭। গ্রিন ফিন্যান্স লোণ।

এই খাত গুলো থেকে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় লোণটির জন্য আবেদন করতে পারেন। এবার চলুন জেনে নেয়া যাক, এই সমস্ত লোণ নেয়ার জন্য আপনাকে অগ্রণী ব্যাংকের কি কি শর্ত পূরণ করতে হবে।

অগ্রণী ব্যাংক থেকে পার্সোনাল লোন নেয়ার শর্তসমূহ

  • যে কোন বেতনভুগি ব্যক্তি ঋণ নিতে পারবেন।
  • সর্বচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোণ নিতে পারবেন।
  • বয়স ১৮ থেকে ৫৫ হতে হবে।
  • ৯% সুদ দিতে হবে।
  • প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমান কিস্তি দিতে হবে এবং তা ৫ বছরের মধ্যে শোধ করতে হবে।
  • কোন রকম সিকিউরিটি ফি লাগবে না।

প্রয়োজনীয় বা যে কোন কাজের জন্য লোণ নেয়ার রিকয়ারমেন্ট সমুহ

  • এ কাজের জন্য সর্বচ্চ ৩ লক্ষ টাকা লোণ পাবেন।
  • সুদের হার ৯%
  • প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমান কিস্তি দিতে হবে এবং তা ৫ বছরের মধ্যে শোধ করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য লোণ নেয়ার রিকয়ারমেন্ট সমুহ

  • লোণের জন্য আবেদনকারী সরকার কর্তৃক রেজিস্টার কৃত মুক্তিযুদ্ধা হতে হবে।
  • আবেদনকারীর স্ত্রী, ছেলে বা মেয়ে কোন না কোন চাকরি রত অবস্থা থাকতে হবে।
  • সর্বচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোণ পাবেন।
  • ৫ বছরের মধ্যে লোণ পাবেন।
  • নির্দিষ্ট পরিমান টাকা প্রতি মাসে তার মুক্তিযুদ্ধা ভাতা থেকে কেটে নেয়া হবে।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য লোণ নেয়ার শর্ত সমুহ

  • বয়স সর্বচ্চ ৬৫ বছর।
  • ৫ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
  • পার্সোনাল ইনফরমেশনের গ্যারান্টি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রবাসীদের জন্য লোণ নেয়ার শর্ত

  • ভ্যালিড ভিসা থাকতে হবে।
  • পাসপোর্ট, হেলথ সার্টিফিকেট, এবং বিদেশে যাবার এয়ার লাইন্স টিকিট থাকতে হবে।
  • বয়স ১৮ থেকে ৪৫ হতে হবে।
  • ৫০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকা পযন্ত ঋণ নিতে পারবে।
  • ১৫ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
  • সুদের হার ৯%।
  • আবেদন কারির রিলেটিভকে পার্সোনাল গ্যারান্টার দেখাতে হবে।

স্বল্প মেয়াদি লোণ নেয়ার শর্ত

  • স্বল্প পরিসরে ব্যবসা করার জন্য এই লোণ নেয়া যাবে।
  • আবেদনকারীর ৩ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছর হতে হবে।
  • ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোণ নেয়া যাবে।
  • ২ বছরের মধ্যে লোণ পরিশোধ করতে হবে।
  • সুদের হার ৯ %।

গ্রিন ব্যাংকিং ফিন্যান্স

  • এই সেবাটি সাধারণত সেই সব ব্যক্তিদের জন্য যারা, এই সেবা নেয়ার পর নির্দিষ্ট পরিমান টাকা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করতে ব্যয় করবে।
  • যেমন- সৌর প্যানেল, বায়োগ্যাস, বজ্র পরিশোধ প্লান্ট ইত্যাদি ক্রয় করার কাজে লাগানো যাবে।
  • মাসিক, বা হাফ ইয়ারলি ভাবে পরিশোধ যোগ্য।
  • সুদের হার ৯%

উপরে অগ্রণী ব্যাংক থেকে যে সমস্ত খাত থেকে আপনি লোণ বা ঋণ নিতে পারবেন তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়ার চেষ্টা করলাম। আশা করি আমার পুরো আর্টিকেলটি পড়লে ব্যাংক লোণ সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত তথ্যগুলো পেয়ে যাবেন এবং লোণ নিতে গেলে আপনার কোন সমস্যা হবে না।