মান নিয়ন্ত্রণ কি?

ব্যবসায় সাফল্য আনতে গুণগতমান সম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর সে জন্য দরকার পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করা। পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এর মাধ্যমে একজন উৎপাদনকারী কোন পণ্যের উৎপাদনে মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সহজেই ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষন করতে সমর্থ হন অর্থাৎ ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতার আগ্রহ সৃষ্টি করে। এখানে উদাহরণ হিসাবে আমরা “জ্যাম জেলী” সম্পর্কে আলোচনা করতে পারি।

একজন ক্রেতা জেলী ক্রয়ের সময় জেলীর মান বিচার করেন জেলিটি কবে তৈরী হয়েছে, গন্ধ আছে কিনা, স্বাদ ও রং কেমন ইত্যাদি। একজন উৎপাদনকারীও ঠিক উপরের বিষয়গুলো বিবেচনা করেই তার পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করেন। বাংলাদেশের পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য যে, বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা দরকার সেগুলো হলো-

  • কাঁচামালের গুণগতমান রক্ষা করা।
  • কাঁচামালের ক্ষতিকারক দিকগুলো বিবেচনা করা
  • পণ্য তৈরীর মাধ্যম/প্রযুক্তি
  • যন্ত্রপাতির ব্যবহার
  • আকার-আকৃতি রং বৈচিত্রতা সম্পর্কিত ক্রেতার গ্রহণযোগ্যতা
  • পণ্যের আয়ুস্কাল
  • একই রকম পণ্য উৎপাদন করা
  • কাঁচামালের আনুপাতিক হার সম্পর্কে সজাগ থাকা
  • পণ্যের ফিনিশিং নিশ্চিত করা
  • বিকল্প কাঁচামাল ব্যবহারের সতর্কতা।

পণ্যের মান কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কিছু কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন-

  • একই ধরণের পণ্য উৎপাদনের জন্য উৎপাদনকারীরা কী ধরণের কাঁচামাল ব্যবহার করে সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ।
  • অপেক্ষাকৃত উন্নততর গ্রহণযোগ্য ও মান সম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
  • সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মী/শ্রমিক নিয়োগ করা।
  • যে সব কাঁচামাল জন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তা ব্যবহার না করা।
  • পণ্য তৈরীতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ও আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা পণ্য উৎপাদন করা।
  • পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্যে যথেষ্ট সময় থাকা।
  • একই পণ্যের একই মান নিশ্চিত করা।
  • পণ্য উৎপাদনে কাঁচামাল মিশ্রণের সময় আনুপাতিক হার নির্দিষ্ট করে দেয়া।
  • যন্ত্রপাতি ও পোশাক-পরিচ্ছদ সব সময় ধৌত করা ও জীবানুমুক্ত রাখা।

পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিবেচ্য বিষয়ঃ

  • কাঁচামালের গুণগত মান।
  • কাঁচামালের ক্ষতিকারক দিকগুলো বিবেচনা।
  • পণ্য তৈরীর মাধ্যম/প্রযুক্তি।
  • যন্ত্রপাতি ব্যবহার।
  • আকৃতি, রং, বৈচিত্রতা সম্পর্কিত ক্রেতার গ্রহণযোগ্যতা।
  • পণ্যের আয়ুষ্কাল।
  • একইরকম পণ্য উৎপাদন।
  • বিকল্প কাঁচামাল ব্যবহারে সতর্কতা।
  • কাঁচামালের আনুপাতিক হার সম্পর্কে সজাগ থাকা।
  • পণ্যের ফিনিশিং নিশ্চিতকরা।

পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের কৌশলসমূহঃ

  • একই পণ্যের অন্য উৎপাদনকারীদের ব্যবহৃত কাঁচামাল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ।
  • দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মী/শ্রমিক নিয়োগ
  • পণ্য তৈরীতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা।
  • আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা পণ্য উৎপাদন করা।
  • পণ্য উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্যে যথেষ্ট সময় থাকার মত করে পণ্য তৈরী করা।
  • একই পণ্যের একই মান (মিল/সাদৃশ্যের ক্ষেত্রে) নিশ্চিত করা।
  • কাঁচামাল মিশ্রণের সময় আনুপাতিক হার নির্দিষ্ট করে দেয়া।