আজকে আমরা জানব কিভাবে রপ্তানি ব্যবসা শুরু করব?

এর আগে রপ্তানি ব্যবসা সম্পর্কে আপনাদেরকে কিছু সাধারণ ধারণা নিতে হবে, যেমন কোথা থেকে রপ্তানি লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে? কিভাবে টিন, ভ্যাট লাইসেন্স করতে হবে? এই বিষয়গুলো জানতে হবে।

রপ্তানি করার প্রথম পর্যায়ে একটি রপ্তানি লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

সরকার রপ্তানি করার জন্য রপ্তানিকারকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে থাকে কারণ রপ্তানি কারীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সামগ্রিক ভাবে কাজ করে। বিদেশ থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, এজন্য সরকার রপ্তানি লাইসেন্স ফি মাত্র 8 হাজার টাকা করা হয়েছে এর সাথে 15% ভ্যাট প্রযোজ্য।

রপ্তানি লাইসেন্স করতে খুব বেশিদিন সময় লাগে না, এটি করতে মাত্র 3 থেকে 5 দিন সময় লাগতে পারে। আপনি যদি ভালোভাবে ফরম ফিলাপ করে সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিতে পারেন তাহলে খুব দ্রুত লাইসেন্স করিয়ে নিতে পারবেন।

আপনার রপ্তানি লাইসেন্স করা শেষ হলে পরের কাজ হলো পিআই পারফরম্যান্স ইনভয়েস প্রদান করা। বায়ার যে পণ্য আমদানি করতে চায় তার একটা বর্ণনা তৈরি করে দিতে হবে সাধারণত প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা থাকে পণ্যের বিবরণ থাকে এবং সেলারের ঠিকানা এবং তাদের ইনভয়েস নাম্বার বিআইটি উল্লেখ করতে হয়। আপনি যখন করবেন তখন ইনভয়েস নাম্বারটি দিতে হবে সি আই তারিখ অর্থাৎ কোন তারিখে পি আই করা হয়েছিল পি আই কথাটির অর্থ হচ্ছে পারফর্মার ইনভয়েস। আপনি আপনার কোম্পানির সিল দিয়ে সাইন করবেন এই পি আই নিয়ে তার ব্যাংকে গিয়ে এসি ওপেন করতে পারবে।

পারফরম্যান্স ইনভয়েস তৈরীর পর ব্যাংকের সুইফট কোড দিয়ে ব্যাংকে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। তাদেরকে বলতে হবে বায়ার আপনার কোম্পানির নামে একটি এলসি ইস্যু করেছে, ব্যাংক আপনাকে একটি এলসি কপি দিবে আর একটা ইএক্সপি ফরম দিবে। এই এল সি ফ্রম আপনি যে পণ্য রপ্তানির করবেন তার বিস্তারিত থাকবে। ব্যাংক আপনাকে টাকা দিয়ে দিবে ডলারক এর জন্য কিছু খরচ নেবে।

এবারের কাজ হল পণ্য রপ্তানি করা, আপনি বাংলাদেশ থেকে ঢাকা অথবা চট্টগ্রাম বন্দর যেকোনো পোর্ট দিয়ে পণ্য রপ্তানি করতে পারেন। এজন্য আপনাকে c&f নিযুক্ত করতে হবে সি এন এফ মানে কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট। এই প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানি পণ্যের কাস্টম প্রসিডিউর সম্পন্ন করে থাকে এবং সরকারি টেক্স প্রদানে রপ্তানিকারককে সহযোগিতা সহযোগিতা করে এরা সরকার কর্তৃক বিশেষ লাইসেন্স প্রাপ্ত।

সাধারণত রপ্তানি করতে খরচ কিছুটা কম, ফুল কন্টেইনার ভাড়া করতে আপনাকে 800 থেকে 900 ডলার গুনতে হবে আর বিমানে প্রতি কেজি অন্যের জন্য 4 থেকে 5 ডলার লাগবে।

রপ্তানি করতে সরকারকে কোন ট্যাক্স দিতে হয় না উপরন্তু কিছু পণ্য আছে যেগুলো রপ্তানি করলে আপনি সরকার থেকে ভর্তুকি পাবেন। 100 কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করতে আপনাকে 4/5 হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

পণ্য কনটেইনারে দেওয়ার পরে আপনার কাজ হল সকল কাগজপত্র যেমন ইনভয়েস পি আই প্যাকিং লিস্ট বি এল ইত্যাদি ব্যাংকে জমা দেওয়া, এসব কাগজপত্র আপনার বায়ারের কাছে পাঠিয়ে দিবে বা আর এসব কাগজপত্র জমা দিয়ে অন্য বন্দর থেকে ছাড়িয়ে নিবে। এভাবে আপনার রপ্তানি প্রক্রিয়া শেষ হবে।

পুরো পোস্টটিতে রপ্তানি প্রক্রিয়ার একটি ধারণা দেওয়া হলো, রপ্তানি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

Write A Comment