পণ্যের মূল্য নির্ধারণ কৌশল

পন্যের দাম নির্ধারণ

পণ্যের সঠিক বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা যেকোন ব্যবসায়ীর জন্য অত্যন্ত কঠিন কাজ। সঠিক মূল্য নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট কোন পদ্ধতি নাই। কিন্তু সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা না হলে তার পরিনতি খুবই খারাপ হয়। এর চূড়ান্ত ফলাফল হল ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া। পণ্যের মুল্য নির্ধারণের সময় সব খরচ বিবেচনায় না নিলে বা বেশি মূল্য নির্ধারণ করার ফলে কোন বিক্রয় না হলে এর চূড়ান্ত ফলাফল হিসাবে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ক্রেতার বিভিন্ন ধরণের প্রয়োজন ও তাদের সন্তুষ্টি বিধানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ভারসাম্য রক্ষা করে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনকেই আমরা আদর্শ মূল্য হিসাবে চিহ্নিত করতে পারি।

  • মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়
  • গ্রাহকের নিকট গ্রহনযোগ্যতাই আপনার পণ্য বিক্রিতে সহায়তা করতে পারে।
  • বাজারের প্রতিযোগীদের বর্তমান মূল্য এবং ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতাকে বিবেচনা করতে হবে।
  • পণ্যে কী ধরণের মূল্যমান সংযোজন করা হলে গ্রাহক আপনার পণ্য ক্রয়ে উৎসাহিত হবে তাও বুঝতে সহায়তা করবে।
  • পরিবর্তনশীল খরচ ও স্থায়ী খরচ অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
  • যথা সম্ভব উৎপাদন খরচ কম রাখা, উৎপাদনকারী প্রতিযোগীর সংখ্যা অনুযায়ী।

আপনার প্রতাশিত পণ্য বিক্রয়ের পরিমাণও বিক্রয় মূল্যকে প্রভাবিত করে। এই কারণেই কিছু কিছু ব্যবসা তাদের পণ্যের জন্য খুবই অল্প মূল্য ধার্য করতে সক্ষম হয়। হয়তো বা তাদের বিক্রিত পণ্যের ইউনিট প্রতি খুবই কম লাভ হয় কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ব্যাপক পণ্য বিক্রয় তাদের ব্যবসায় অর্থ প্রাপ্তিতে নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষ বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা ব্যবসার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী কৌশল হতে পারে।

মূল্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

গ্রাহকের নিকট গ্রহনযোগ্যতাই আপনার পণ্য বিক্রিতে সহায়তা করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকে বাজারের প্রতিযোগীদের বর্তমান মূল্য এবং ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতাকে বিবেচনা করতে হবে। এছাড়াও পণ্যে কী ধরণের মূল্যমান সংযোজন করা হলে গ্রাহক আপনার পণ্য ক্রয়ে উৎসাহিত হবে তাও বুঝতে সহায়তা করবে।একজন ব্যবসায়ী হিসাবে আপনাকে সব ধরণের খরচই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই খরচগুলো হলো পণ্য বা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল খরচ ও স্থায়ী খরচ।

           মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য

ব্যবসায় অর্থ আগমন ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে একজন ব্যবসায়ীকে পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের উপর নির্ভর করতে হয়। সত্যি কথা বলতে কি, এই কারণেই তো সবাই ব্যবসা করা। আপনার প্রত্যাশিত পণ্য বিক্রয়ের পরিমাণও বিক্রয় মূল্যকে প্রভাবিত করে। এই কারণেই কিছু কিছু ব্যবসা তাদের পণ্যের জন্য খুবই অল্প মূল্য ধার্য করতে সক্ষম হয়।

হয়তো বা তাদের বিক্রিত পণ্যের ইউনিট প্রতি খুবই কম লাভ হয় কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ব্যাপক পণ্য বিক্রয় তাদের ব্যবসায় অর্থ প্রাপ্তিতে নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষ বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা ব্যবসার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী কৌশল হতে পারে।

কিভাবে সঠিক মূল্য ঠিক করবেন :

একটি পণ্যের বিক্রয় মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সবচেয়ে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পণ্য পরিবর্তনের জন্য চাহিদা যাহা খরচ পণ্য তৈরীর সঙ্গে সম্পৃক্ত। মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়, সেখানে মূল্য নির্ধারণ করার জন্য কিছু কক্ষ আছে। সঠিকভাবে হিসাব করলে মূল্য নির্ধারণ সীমাবদ্ধতার মধ্যে রাখা যায়।

পণ্যের বিক্রয় মূল্য স্থির করার জন্য তিনটি প্রণালী/ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

মূল্য সংযোগ পদ্ধতি (cost plus method):

লাভকে সম্ভাব্য অবস্থায় রেখে ইহা করা হয়। যেমনঃ পণ্যের খরচের মধ্যে ৫% থেকে ১৫% মধ্যে রাখা হয়।

প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি (comparative method):

বাজারে অন্যান্য পণ্য ও সেবাদানের সঙ্গে তুলনা করে করা হয়। একই স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পণ্য অথবা সেবাদানের প্রতি লক্ষ্য রেখে নিুোক্তভাবে মূল্য স্থির করা হয়। অন্যান্য সমমানের পণ্য যদি আপনার খরচের কম মূল্য হয়, তাহলে আপনার খরচ কমানো উচিৎ এবং একইভাবে আপনার পণ্যের আরো আকর্ষণীয়তা বাড়ানোর পরে প্রতিযোগিতায় যাওয়া উচিৎ। তাহলে আপনি বেশি মূল্য আশা করতে পারেন।

ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা ভিত্তিক পণ্যের মূল্য নির্ধারণ কৌশল (what the market will bear method):

ইহা পণ্য এবং সেবাদানের চাহিদা ও সরবরাহের সহিত সম্পর্কযুক্ততার উপর নির্ভর করে প্রয়োগ করা হয়। যদি একটি পণ্য বাজারে দূর্লভ হয়, তাহলে ইহার মূল্য cost plus method এর চাইতে অধিক মূল্য হবে। অনুরূপভাবে যদি একটি পণ্য বাজারে বেশি হয় তাহলে, তার মূল্য স্থিরকৃত মূল্যের চাইতে কম হবে। যাহা cost plus method এ বিশ্লেষণ করা হইয়াছে। যদি আপনার খরচের নীচে হয় তাহলে আপনার এই রকম ভাবে করা উচিৎ।

 

খরচ নির্ণয় অনুশীলনী

প্রত্যক্ষ কাঁচামাল খরচ (প্রতি প্যান্ট)

বিবরণ পরিমান (প্রতি প্যান্ট) খরচ (টাকা) মোট খরচ
কাপড় ২ মিটার প্রতি মিটার ৫০ টাকা
সুতা ২০ মিটার প্রতি মিটার ০.১০ টাকা
বোতাম ২ পিছ প্রতি পিছ ১ টাকা
চেইন ১ পিছ প্রতি পিছ ৫ টাকা
অন্যান্য ১ পিছ প্রতি পিছ ৫ টাকা
প্রত্যক্ষ কাঁচামাল খরচ (প্রতি প্যান্ট)

উৎপাদনের সময় (প্রতি প্যান্টের প্রত্যক্ষ শ্রমিক খরচ)

বিবরণ সময় শ্রমিক ব্যয়/ঘন্টা মোট
পরিমাপ ৩০ মিনিট
কাপড় কাটা ০১ ঘন্টা
হাতে সেলাই ৩০ মিনিট
সেলাই ৩০ মিনিট
ইস্ত্রিকরণ এবং মোড়কীকরণ ৩০ মিনিট
প্রতি প্যান্টের প্রত্যক্ষ শ্রমিক খরচ

ফ্যাক্টরী ওভারহেড খরচ

বিবরণ প্রতি বৎসরে ব্যয় প্রতি মাসের ব্যয়
ভাড়া ৬,০০০ টাকা
পানি ১,২০০ টাকা
বিদ্যুৎ ১,২০০ টাকা
টেলিফোন ১,২০০ টাকা
অবচয় ১,২০০ টাকা
রক্ষণাবেক্ষণ ১,২০০ টাকা
মোট ১২,০০০ টাকা
ফ্যাক্টরী ওভারহেড খরচ

অপারেটিং খরচঃ

বিবরণ প্রতি বৎসরে ব্যয় প্রতি মাসে ব্যয়
বিক্রয় ব্যয় ১২,০০০ টাকা
মালিকের বেতন ২৪,০০০ টাকা
সহকারীর বেতন ১২,০০০ টাকা
পরিদর্শকের বেতন ১২,০০০ টাকা
মোট ৬০,০০০ টাকা
অপারেটিং খরচঃ

তথ্য সূত্রঃ

প্র্রতি শ্রমিকের মাসিক বেতন =১০০০ টাকা

দৈনিক কর্মকাল = ০৮ ঘন্টা

প্রতি মাসে কর্মকাল= ২২ দিন

দৈনিক প্যান্ট উৎপাদন ক্ষমতা ১০ টি

প্রতি প্যান্টের মোট খরচ কত?

খরচ নির্ণয় অনুশীলনী সমাধান

প্রত্যক্ষ কাঁচামাল খরচ (প্রতি প্যান্ট)

বিবরণ পরিমান (প্রতি প্যান্ট) খরচ (টাকা) মোট খরচ
কাপড় ২ মিটার প্রতি মিটার ৫০ টাকা ১০০ টাকা
সুতা ২০ মিটার প্রতি মিটার ০.১০ টাকা ২ টাকা
বোতাম ২ পিছ প্রতি পিছ ১ টাকা ২ টাকা
চেইন ১ পিছ প্রতি পিছ ৫ টাকা ৫ টাকা
অন্যান্য ১ পিছ প্রতি পিছ ৫ টাকা ৫ টাকা
প্রত্যক্ষ কাঁচামাল খরচ (প্রতি প্যান্ট) ১১৪.০০ টাকা

উৎপাদনের সময় (প্রতি প্যান্টের প্রত্যক্ষ শ্রমিক খরচ)

বিবরণ সময় শ্রমিক ব্যয়/ঘন্টা মোট
পরিমাপ ৩০ মিনিট ৫.৬৮ ২.৮৪
কাপড় কাটা ০১ ঘন্টা ৫.৬৮ ৫.৬৮
হাতে সেলাই ৩০ মিনিট ৫.৬৮ ২.৮৪
সেলাই ৩০ মিনিট ৫.৬৮ ২.৮৪
ইস্ত্রিকরণ এবং মোড়কীকরণ ৩০ মিনিট ৫.৬৮ ২.৮৪
প্রতি প্যান্টের প্রত্যক্ষ শ্রমিক খরচ ১৭.০৪ টাকা

 

ফ্যাক্টরী ওভারহেড খরচ

বিবরণ প্রতি বৎসরে ব্যয় প্রতি মাসের ব্যয়
ভাড়া ৬,০০০ টাকা ৫০০ টাকা
পানি ১,২০০ টাকা ১০০ টাকা
বিদ্যুৎ ১,২০০ টাকা ১০০ টাকা
টেলিফোন ১,২০০ টাকা ১০০ টাকা
অবচয় ১,২০০ টাকা ১০০ টাকা
রক্ষণাবেক্ষণ ১,২০০ টাকা ১০০ টাকা
মোট ১২,০০০ টাকা ১,০০০ টাকা
প্রতি প্যান্ট (১০ প্যান্ট/দিন=২২০ প্যান্ট/মাস) ৪.৫৫ টাকা

অপারেটিং খরচঃ

বিবরণ প্রতি বৎসরে ব্যয় প্রতি মাসে ব্যয়
বিক্রয় ব্যয় ১২,০০০ টাকা ১,০০০ টাকা
মালিকের বেতন ২৪,০০০ টাকা ২,০০০ টাকা
সহকারীর বেতন ১২,০০০ টাকা ১,০০০ টাকা
পরিদর্শকের বেতন ১২,০০০ টাকা ১,০০০ টাকা
মোট ৬০,০০০ টাকা ৫,০০০ টাকা
প্রতি প্যান্ট (৫০০০ টাকা/মাসকে ২২০ প্যান্ট/মাস দ্বারা ভাগ করুন) ২২.৭৩ টাকা

 

প্রতি প্যান্টের মোট খরচ = (১১৪.০০+১৭.০৪+৪.৫৫+২২.৭৩)= ১৫৮.৩২ টাকা

 

4 thoughts on “পণ্যের মূল্য নির্ধারণ কৌশল”

Leave a Comment