ব্যবসা শুরু করার পদ্ধতি (স্টার্ট-আপ বিজনেস)

বিজনেস স্টার্ট-আপ কি?

যিনি নিজের মেধা খাটিয়ে পণ্য উৎপাদনের জন্য কোন ব্যবসায়ীক উদ্যোগ গ্রহন করেন তাকে বলে উদ্যোক্তা। আর তার নতুন উদ্যোগকে বলে ষ্টার্ট আপ। নতুন উদ্যোগের বিষয়ে একজন উদ্যোক্তাকে যে সব বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখতে হয় তা লো ব্যবসায়িক কলাকৌশল, পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন। ব্যবসা শুরু করার পূর্বে ব্যবসা শুরু করার পদ্ধতি জানা প্রয়োজন।

নতুন ব্যবসা শুরু করার পদ্ধতি

যে কোন ব্যবসায়ের শুরুতে প্রথম যে কাজটি চ্যালেঞ্জিং সেটি হল বিজনেস প্লান।
বিজনেস প্লান মূলত এমন একটি বিষয় যেটি আপনি কিভাবে ব্যবসা শুরু করবেন, কোন পথে এগোবেন, আপনার রিসোর্স কি কি আছে, সমস্যা ও সুবিধাগুলো কি কি এবং বিজনেস সংক্রান্ত আরো অন্যান্য কী পয়েন্টগুলো ফোকাস করে। ব্যবসাকে তার মতো করে এগিয়ে নিতে প্লানিংয়ের কোন বিকল্প নেই।

বিজনেস স্টার্ট-আপ বা উদ্যোক্তা হবেন কিভাবে?

ব্যবসাকে অনেকে খুব সহজ ও সাধারণ বিষয় বলে মনে করেন। আবার কারাে কারাে কাছে তা খুবই কঠিন একটি কাজ। ব্যবসার রয়েছে বিভিন্ন ধরণ। কেউ কেউ পণ্য কেনা-বেচা করে বা আমদানি-রপ্তানি করে। কেউবা পণ্য উৎপাদন করে তা বিপণনের ব্যবস্থা করে। যিনি মেধা খাটিয়ে পণ্য উৎপাদন করেন তিনি হচ্ছেন উদ্যোক্তা।

বিষয়টিকে একটু খতিয়ে দেখা যাক। বিভিন্ন বিষয়ের উপর ব্যবসার সাফল্য নির্ভর করে। এসব বিষয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ব্যবসায়িক কলাকৌশল, পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন বা ব্যবসা শুরু করার পদ্ধতি জানা প্রয়ােজন। সর্বপ্রথম প্রয়ােজন “আমি ব্যবসা করব’ এ ধরণের মানসিক প্রস্তুতি। এরপর সঠিক দিকনি সম্পদের প্রাপ্যতা নিয়ে ভাবনা ও পরিকল্পনা। একটি সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে একজন উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীকে তার লক্ষ্যের দিকে পৌছতে সাহায্য করবে। মূলধন ও সম্পদ ব্যবসার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলেও মুখ্য বিষয় নয়, কেননা সঠিক দিকনির্দেশনা অনুযায়ী অগ্রসর না হলে তাতে বিনিয়ােগের সমূহ ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

ব্যবসা শুরু করার পদ্ধতি

একজন উদ্যোক্তা/ব্যবসায়ী হতে হলে কিভাবে ব্যবসা আরম্ভ করতে হবে তা সবার আগে জানতে হবে। কিভাবে ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানী রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে, কিভাবে ব্যাংক একাউন্ট খুলতে হবে, বিজনেস প্ল্যান বা ব্যবসায় পরিকল্পনা তৈরী, বিভিন্ন নিবন্ধন ও লাইসেন্স যেমনঃ পরিবেশ ছাড়পত্র, ফায়ার লাইন বয়লার রেজিষ্ট্রেশন, পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস রেজিষ্ট্রেশন ইত্যাদি, অবকাঠামাে ও ইউটিলিটি সার্ভিস, ট্যাক্স ও ভ্যাট, কোয়ালিটি সাটিফিকেশন, আমদানি ও রপ্তানি পদ্ধতি, পণ্য উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়গুলাে সম্পর্কে একজন উদ্যোক্তার স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে।।

বাংলাদেশে একজন উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে ব্যবসা শুরু করার নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবেঃ 

ধাপ-১ঃ প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি ব্যবসা করবেন। এরপর আপনাকে ঠিক করতে হবে কোন ব্যবসাটি আপনার জন্য উপযুক্ত? একইসাথে ব্যবসার ধরণ ঠিক করতে হবে-ট্রেডিং অথবা উৎপাদনমূলক অথবা সেবামূলক ব্যবসা। ব্যবসার ধরণ ঠিক করার পর আপনার ব্যবসা করার জন্য অফিস বা কারখানা করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করতে হবে। ব্যবসাটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটি ব্যবসায় পরিকল্পনা তৈরী করতে হবে।

ধাপ-২ঃ ব্যবসা শুরুর জন্য প্রয়ােজনীয় অর্থের সংস্থান অর্থাৎ মূলধন যােগাড় করতে হবে।

ধাপ-৩ঃ আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি একক ব্যবসা করবেন না যৌথ মালিকানাধীন ব্যবসা করবেন। যৌথ মালিকানাধীন ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ঠিক করতে হবে কাকে পার্টনার/অংশীদার হিসেবে নিবেন।

ধাপ-৪ঃ ব্যবসার জন্য উপযুক্ত স্থানে জমি ক্রয়/ভাড়া/লীজ নিতে হবে।

ধাপ-৫ঃ ব্যবসার গঠনকাঠামাে অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স অথবা কোম্পানি রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে।

ধাপ-৬ঃ ব্যবসা সংক্রান্ত অন্যান্য রেজিষ্ট্রেশন ও লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

ধাপ-৭ঃ নির্ধারিত জায়গায় শিল্প স্থাপন করতে হবে।

ধাপ-৮ঃ শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, পয়ঃসংযােগ প্রভৃতি ইউটিলিটি সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে।

ধাপ-৯ঃ ব্যবসার জন্য প্রয়ােজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ক্রয়, কাঁচামাল ক্রয় এবং টেকনােলজী/প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে।

ধাপ-১০ঃ যথাযথ পদ্ধতি মেনে প্রয়ােজনীয় জনবল নিয়ােগ দিতে হবে।

ধাপ-১১ঃ ব্যবসায় পরিকল্পনা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন এবং বিপণন করতে হবে।

Steps to start a Business

সূত্রঃ অনলাইন সোর্স

সফল ব্যবসার জন্য একজন বলিষ্ঠ উদ্যোক্তা অপরিহার্য। এই উদ্যোক্তা প্রথমেই নির্ধারণ করবেন পণ্য বা সেবাটি । কী এবং ব্যবসাটি কোথায় অবস্থিত হবে। এসব নির্ধারণের উপর ভিত্তি করে, একটি ব্যবসার সম্ভাব্যতা যাচাই। এর জন্য স্টাডি পরিচালনা করতে হবে (Feasibility Study) এবং প্রস্তাবিত ব্যবসার একটি সংক্ষিপ্ত । বিজনেস প্রােফাইল প্রস্তুত করতে হবে।অতঃপর উদ্যোক্তাকে একটি ব্যবসায় পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে। ধরণ, স্থান, বিনিয়ােগ এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ভিত্তি করে, একজন উদ্যোক্তাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অগ্রসর হতে হবে।

ব্যবসা নির্ধারণ এবং প্রাথমিক কর্মকান্ডসমূহ নিম্নোক্ত বিষয়ের সাথে জড়িতঃ

১। পণ্য বা সেবা নির্বাচন

২। জায়গা নির্বাচন

৩। ব্যবসার সম্ভাব্যতা যাচাই

৪। ব্যবসায় পরিকল্পনা প্রস্তুত করা

3 thoughts on “ব্যবসা শুরু করার পদ্ধতি (স্টার্ট-আপ বিজনেস)”

Leave a Comment